বৃহস্পতিবার , মে ২৩ ২০২৪
Home / সারা দেশ / উলিপুরে সাংবাদিক লাঞ্চিত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর ও টাকা লুট

উলিপুরে সাংবাদিক লাঞ্চিত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর ও টাকা লুট

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ 

বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের সংবাদ প্রকাশ করায় যুগান্তর পত্রিকার উলিপুর প্রতিনিধি উত্তম কুমার সেন গুপ্ত লক্ষনকে লাঞ্চিত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর এবং টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে। ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ মধুপুর সাতকুড়ারপাড় গ্রামের সুশীল চন্দ্র বর্মণের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী মহলে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সাংবাদিক শিমুল দেব, ইউনুছ আলী, চন্দন সরকার ও ব্যবসায়ী মোস্তোফা কামাল জানান, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ধরণীবাড়ী এলাকায় পুলিশের উপস্থিতিতে সুশীল চন্দ্র বর্মণের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সুবল চন্দ্রের দখলে থাকা বাড়ীঘর ভেঙ্গে ও মালামাল লুট করে দখলে নেয় ২৫ শতক জমি। এ সংবাদ রোববার যুগান্তরে প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয় পুলিশ বিভাগে। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সন্ত্রাসীরা। সুশীল চন্দ্র বর্মণের নেতৃত্বে ৪৫/৫০ জনের একটি দল রোববার দুপুরে প্রথমে থানায় হাজির হয়। পরে ফেরার পথে দুপুর আড়াইটার দিকে যুগান্তরের উলিপুর প্রতিনিধি উত্তম কুমার সেন গুপ্ত লক্ষণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে (উলিপুর উপজেলা শহরের বাজারে অবস্থিত) হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। এক পর্যায়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ডয়ার ভেঙ্গে ৫৫ হাজার টাকা লুটকরে এবং লক্ষনকে লাঞ্চিত করে। তারা এক পর্যায়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন সাংবাদিকের বাড়িতেও হামলার চেষ্টা করে। পার্শবর্তী ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকরা সংগঠিত হয়ে এগিয়ে এসে প্রতিরোধ গড়ে তুললে সন্ত্রাসীরা পিছুহটে। বিষয়টি তাৎক্ষনিক ভাবে মোবাইল ফোনে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেনকে অবহিত করা হয়। তিনি পুলিশ ফোর্স পাঠাতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি।
উত্তম কুমার সেন গুপ্ত লক্ষন জানান, হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। পুলিশকে মোবাইলে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। মামলা প্রস্তুতি চলছে। রাতেই থানায় এজাহার দাখিল করা হবে।
উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন স্বীকার করেন সুশীল চন্দ্র বর্মণের নেতৃত্বে একদল মানুষ তাঁর সাথে দেখা করতে থানায় আসে। এর পর তাঁরা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছেকিনা সেটা তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

About admin

Check Also

এবছরও উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজ

মাহফুজার রহমান মাহফুজ, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী উপজেলা ফুলবাড়ী। স্বাধীনতা অর্জনের দুই বছরের …

কুড়িগ্রামে প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলায় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার নিমিত্তে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২য় …

রংপুরে কিশোর গ্যাংয়ের মুলহোতা মেরাজ গ্রেফতার

রেখা মনি,রংপুর ব্যুরোঃ রংপুরে র‌্যাবের জালে বন্দি কিশোর গ্যাংয়ের মুলহোতা মেরাজ।কয়েকদিন আগে রংপুর নগরীর গণেশপুরে হোটেল ব্যবসায়ীর উপর হামলাকারী কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা মো.মেরাজ (২০)কে গ্রেফতার করেছে রংপুর র‌্যাব-১৩।র‌্যাব বলছেন রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানা থেকে ওই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার (১২)মে বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১৩ এর  উপ-পরিচালক (মিডিয়া) স্কোয়াড্রন লিডার মাহমুদ বশির আহমেদ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি সুত্রে জানা গেছে,গত পহেলা মে রংপুর নগরীর গণেশপুর বকুলতলা এলাকায় মো. মিরাজ ও তার অন্যান্য কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ভাই ভাই হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এর সামনে পটকা ফুটাতে থাকে। তবে এঘটনায় ২জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানাগেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-প্রধান আসামী মেরাজ ও শ্ওান। এতে হোটেল ম্যানেজার মো.শাহরিয়ার (২৬) বিরক্তি প্রকাশ করে কিশোরে বাবা মা এর কাছে তাদের নামে অভিযোগ বলে জানান।তখন সেখান থেকে চলে যায় তারা।পরেরদিন ২ মে মিরাজ ও তার কিশোর গ্যাং সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র দা, লোহার ধারালো কিরিচ, লোহার রড ইত্যাদি নিয়ে ভাই ভাই হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এ হামলা চালায়। হামলায় হোটেলের ম্যানেজার  শাহরিয়ার গুরুতর আহত হন। কিশোর গ্যাংয়ের সেদিনের হামলার ভিডিও (সিসি টিভি ফুটেজ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রæত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর মেরাজের সাথে থাকা অন্য দুই জন পুলিশের কাছে গ্রেফতার হলেও মিরাজ গা ঢাকা দেয়। এ ঘটনায় হোটেল মালিক বাদী হয়ে ওই দিনেই রংপুর কোতয়ালীয় ৩জনের নাম উলেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই রংপুর-র‌্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। ছায়া তদন্তের এক পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে (রোববার) মিঠাপুকুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা মো. মিরাজ কে গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে রংপুর ‌র‌্যাব- ১৩ এর  উপ-পরিচালক (মিডিয়া) স্কোয়াড্রন লিডার মাহমুদ বশির আহমেদ জানান,গ্রেফতার কিশোর গ্যাংয়ের মুলহোতা মেরাজকে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেই সাথে রংপুরে কিশোর গ্যাং মুক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নজরদারি রয়েছে বলে র‌্যাব জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *