শুক্রবার , ফেব্রুয়ারি ১৬ ২০২৪
Home / জাতীয় / বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি: সাবেক ৭ এমডিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট ***

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি: সাবেক ৭ এমডিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট ***

আলমগীর হোসাইনঃ

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭.৯৯ টন কয়লা (মূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা) আত্মসাতের অভিযোগে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক সাত ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ২৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার দিনাজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক আজিজ আহমেদ ভুইয়ার আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামসুল আলমের পক্ষে দুদক দিনাজপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান এ চার্জশিট দাখিল করেন।

খনি থেকে কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা দায়েরের ঠিক এক বছর পর বুধবার আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হলো। কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির পক্ষে ম্যানেজার (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা করেছিলেন।

চার্জশিটে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭.৯৯ টন কয়লা আত্মসাতে জড়িত। যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা। আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

চার্জশিটে যাদের নাম রয়েছে, তারা হলেন- বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক এমডি মো. মাহবুবুর রহমান, মো. আবদুল আজিজ খান, প্রকৌশলী খুরশীদুল হাসান, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, মো. আমিনুজ্জামান, প্রকৌশলী এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব ও সাবেক এমডি প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ। এই সাত এমডির মধ্যে হাবিব উদ্দিন আহমেদ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

বাকি ছয়জনের সম্পৃক্ততা তদন্তে মিলেছে। তারা ২০০৫ থেকে ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির এমডির দায়িত্বে ছিলেন। দুদকের তদন্তেও দেখা গেছে, কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনা ২০০৫ সাল থেকেই শুরু। সে কারণে পুরো ঘটনার দায় সাবেক এমডিদের ওপর বর্তায়।

মামলায় অপর আসামিরা হলেন- কয়লা খনি কর্তৃপক্ষের সাবেক জিএম (প্রশাসন) মো. শরিফুল আলম, মো. আবুল কাসেম প্রধানীয়া, আবু তাহের মো. নুর-উজ-জামান চৌধুরী (মাইন অপারেশন বিভাগ), নিরাপত্তা বিভাগের ম্যানেজার মাসুদুর রহমান হাওলাদার, মো. আরিফুর রহমান (ম্যানেজার, মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন), নিরাপত্তা বিভাগের ম্যানেজার সৈয়দ ইমান হাসান, কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ডিজিএম মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের ডিজিএম মো. মোর্শেদুজ্জামান, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ডিজিএম মো. হাবিবুর রহমান, মাইন ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ডিজিএম মো. জাহেদুর রহমান, ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক ডিজিএম সত্যেন্দ্র নাথ বর্মণ ও মো. মনিরুজ্জামান, কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্টের ম্যানেজার মো. শোয়েবুর রহমান, স্টোর ডিপার্টমেন্টের ডিজিএম একেএম খালেদুল ইসলাম, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্টের ম্যানেজার অশোক কুমার হালদার ও মাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ডিজিএম মো. জোবায়ের আলী।

About admin

Check Also

সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও স্বার্থরক্ষায় রাষ্ট্রকে ভুমিকা নিতে হবে: বিএমএসএফ

সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও স্বার্থ রক্ষায় রাষ্ট্রকে ভুমিকা নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক …

ঢাকায় ফিরলেন পিটার হাস

মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস কলম্বো থেকে ঢাকায় ফিরেছেন। সোমবার (২৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকায় …

পেছাল প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা

দ্বিতীয়বারের মতো পেছানো হলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ধাপে রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের সহকারী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *