বৃহস্পতিবার , মে ২৩ ২০২৪
Home / সারা দেশ / রেনু হত্যা: আরও ৭-৮ জনের নাম বলেছে হৃদয় ***

রেনু হত্যা: আরও ৭-৮ জনের নাম বলেছে হৃদয় ***

রাজধানীর বাড্ডায় তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত হৃদয় জিজ্ঞাসাবাদে আরও সাত-আটজনের নাম বলেছে। তারাও নির্মম এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। বুধবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন এসব তথ্য জানান। এর আগে মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা থেকে হৃদয়কে গ্রেফতার করে ডিবি। বুধবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে আবদুল বাতেন বলেন, গ্রেফতার হৃদয় স্কুলগেটে সবজি বিক্রি করত। সে রেনুকে স্কুলে ঢুকতে দেখেছিল। এরপর সন্তানকে ভর্তি করানোর ব্যাপারে সেখানে উপস্থিত অভিভাবকদের বিভিন্ন কথা জিজ্ঞাসা করেন রেনু। এক পর্যায়ে তিনি এক নারী অভিভাবকের বাসার ঠিকানা জিজ্ঞাসা করেন। এতে ওই নারী তাকে ছেলেধরা বলে সন্দেহ করেন। তখন হৃদয় এগিয়ে যায়। তার সঙ্গে আরও ১৫-২০ জন একত্রিত হয়। এ অবস্থা দেখে স্কুলের দোতলায় রেনুকে তালাবদ্ধ করে রাখে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের পাশেই ছিল বাজার। ছেলেধরা আটকের খবরে বাজারের লোকজনও স্কুলে ঢুকে পড়ে। এর পর হৃদয়সহ অন্যরা তালা ভেঙে রেনুকে বাইরে নিয়ে আসে এবং পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পর হৃদয় নারায়ণগঞ্জে তার বাড়িতে চলে যায়। এ সময় সে তার মাথা ন্যাড়া করে এবং ব্যবহূত পুরনো পোশাক পুড়িয়ে ফেলতে বলে নানিকে, যেন কেউ তাকে শনাক্ত করতে না পারে। পুলিশ ঘটনার সময় হৃদয়ের পরনে থাকা কাপড় উদ্ধার করেছে। ডিবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, যে অভিভাবক রেনুকে প্রথম ছেলেধরা বলে সম্বোধন করেছিলেন, তার বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাদের নাম পাওয়া গেলেও এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হচ্ছে না। এ ঘটনায় হৃদয় ছাড়াও সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে জাফর নামে একজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি করছেন গোয়েন্দারা। কেউ উস্কানিমূলক বক্তব্য পোস্ট করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালালে তাকে এবং ওই পোস্টে যারা মন্তব্য করবেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এদিকে হৃদয়ের রিমান্ড শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, আসামি যেভাবে ভিকটিমকে হত্যা করেছে, তাতে দেশবাসী স্তব্ধ হয়ে গেছে। ৪/৫ আসামির মধ্যে এই আসামি হচ্ছে মাস্টারমাইন্ড। বাচ্চাটা আজও তার মায়ের জন্য অপেক্ষা করে আছে। এটা শুধু একটি গুজব নয়; একটি বড় ধরনের যড়যন্ত্র।  এজাহারে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে। হত্যার পর আসামিকে যেন কেউ চিনতে না পারে সে জন্য সে মাথার চুল কেটে ফেলেছে। যেভাবে রেনুকে হত্যা করা হয়েছে, তা বলতে গিয়ে আইনজীবীরাও অশ্রুসিক্ত হন।

About admin

Check Also

এবছরও উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজ

মাহফুজার রহমান মাহফুজ, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী উপজেলা ফুলবাড়ী। স্বাধীনতা অর্জনের দুই বছরের …

কুড়িগ্রামে প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলায় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার নিমিত্তে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২য় …

রংপুরে কিশোর গ্যাংয়ের মুলহোতা মেরাজ গ্রেফতার

রেখা মনি,রংপুর ব্যুরোঃ রংপুরে র‌্যাবের জালে বন্দি কিশোর গ্যাংয়ের মুলহোতা মেরাজ।কয়েকদিন আগে রংপুর নগরীর গণেশপুরে হোটেল ব্যবসায়ীর উপর হামলাকারী কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা মো.মেরাজ (২০)কে গ্রেফতার করেছে রংপুর র‌্যাব-১৩।র‌্যাব বলছেন রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানা থেকে ওই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার (১২)মে বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১৩ এর  উপ-পরিচালক (মিডিয়া) স্কোয়াড্রন লিডার মাহমুদ বশির আহমেদ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি সুত্রে জানা গেছে,গত পহেলা মে রংপুর নগরীর গণেশপুর বকুলতলা এলাকায় মো. মিরাজ ও তার অন্যান্য কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ভাই ভাই হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এর সামনে পটকা ফুটাতে থাকে। তবে এঘটনায় ২জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানাগেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-প্রধান আসামী মেরাজ ও শ্ওান। এতে হোটেল ম্যানেজার মো.শাহরিয়ার (২৬) বিরক্তি প্রকাশ করে কিশোরে বাবা মা এর কাছে তাদের নামে অভিযোগ বলে জানান।তখন সেখান থেকে চলে যায় তারা।পরেরদিন ২ মে মিরাজ ও তার কিশোর গ্যাং সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র দা, লোহার ধারালো কিরিচ, লোহার রড ইত্যাদি নিয়ে ভাই ভাই হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এ হামলা চালায়। হামলায় হোটেলের ম্যানেজার  শাহরিয়ার গুরুতর আহত হন। কিশোর গ্যাংয়ের সেদিনের হামলার ভিডিও (সিসি টিভি ফুটেজ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রæত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর মেরাজের সাথে থাকা অন্য দুই জন পুলিশের কাছে গ্রেফতার হলেও মিরাজ গা ঢাকা দেয়। এ ঘটনায় হোটেল মালিক বাদী হয়ে ওই দিনেই রংপুর কোতয়ালীয় ৩জনের নাম উলেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই রংপুর-র‌্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। ছায়া তদন্তের এক পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে (রোববার) মিঠাপুকুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা মো. মিরাজ কে গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে রংপুর ‌র‌্যাব- ১৩ এর  উপ-পরিচালক (মিডিয়া) স্কোয়াড্রন লিডার মাহমুদ বশির আহমেদ জানান,গ্রেফতার কিশোর গ্যাংয়ের মুলহোতা মেরাজকে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেই সাথে রংপুরে কিশোর গ্যাং মুক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নজরদারি রয়েছে বলে র‌্যাব জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *