বৃহস্পতিবার , এপ্রিল ১১ ২০২৪
Home / জাতীয় / আওয়ামী লীগ ধর্মীয় বিভাজনে বিশ্বাস করে না: প্রধানমন্ত্রী **

আওয়ামী লীগ ধর্মীয় বিভাজনে বিশ্বাস করে না: প্রধানমন্ত্রী **

আলমগীর হোসাইনঃ

নিজেদের সংখ্যালঘু মনে না করতে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ কখনোই ধর্মীয় বিভাজনে বিশ্বাস করে না। শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিন, জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দেশের সনাতম ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি একথা বলেন। খবর বাসসের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার অসৎ উদ্দেশ্যে দেশের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ কখনোই এতে বিশ্বাস করে না। বরং তারা মনে করে এই দেশ সকলের, এদেশে বসবাসকারী সকল ধর্মাবলম্বীর।’ তিনি বলেন, ‘এই বাংলার মাটিতে যেহেতু আমরা ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে এক হয়ে বুকের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কাজেই এখানে সকল ধর্মের সম্মান ও অধিকার থাকবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকালে যখন সকলে একসঙ্গে যুদ্ধ করেছে এক ভাইয়ের সঙ্গে অপর ভাইয়ের রক্ত মাটিতে মিশে গেছে সে রক্ততো কেউ ভাগ করতে যায়নি, এটা ভাগ হতে পারে না।’ এ সময় ভারতীয় শরণার্থী শিবিরে আশ্রিতদের কে হিন্দু বা কে মুসলমান সেটা দেখা হয়নি। আমরা সেটা ভুলবো কীভাবে, বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যে, সংবিধান আমাদের দিয়েছিলেন সেই সংবিধানে তিনি কিন্তু সেকথাই বলে রেখেছিলেন। আমাদের যে চার মূলনীতি সেই মূলনীতিতে কিন্তু একথাটাই ছিল।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখানে আমার একটা অনুরোধ থাকবে আপনারা নিজেরা নিজেদেরকে বার বার করে কেন সংখ্যালঘু সংখ্যালঘু বলেন, আমি জানি না।’ প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি এই রাষ্ট্রের নাগরিক না? আপনারা কি এদেশের মানুষ না? এটা আপনার জন্মভূমি না?’ তিনি নিজেই এর উত্তরে বলেন, ‘এটাতো আপনাদের জন্মভূমি। তাহলে নিজেরা নিজেরেকে ছোট করে সংখ্যালঘু করে দেখবেন কেন? এখানে সকলের সমান অধিকার রয়েছে। আপনারা জানেন আমার বাবার (বঙ্গবন্ধু) আদর্শ অনুসরণ করেই আমরা সকল পদক্ষেপ নিচ্ছি ।’ খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাতমানন্দা মহারাজ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, জন্মষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি গৌরাঙ্গদে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, মহানগর সার্বজনিন পূজা কমিটি সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত পাল, জন্মষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাবে সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ পালিতও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

About admin

Check Also

সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও স্বার্থরক্ষায় রাষ্ট্রকে ভুমিকা নিতে হবে: বিএমএসএফ

সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও স্বার্থ রক্ষায় রাষ্ট্রকে ভুমিকা নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক …

ঢাকায় ফিরলেন পিটার হাস

মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস কলম্বো থেকে ঢাকায় ফিরেছেন। সোমবার (২৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকায় …

পেছাল প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা

দ্বিতীয়বারের মতো পেছানো হলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ধাপে রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের সহকারী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *