মঙ্গলবার , ফেব্রুয়ারি ২০ ২০২৪
Home / ধর্ম / প্রতিমা বিসর্জনে ইছামতি নদীতে দুই বাংলার মিলনমেলা **

প্রতিমা বিসর্জনে ইছামতি নদীতে দুই বাংলার মিলনমেলা **

দেবী দুর্গা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার সীমান্ত নদী ইছামতি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। নদীর মধ্যসীমা বরাবর অসংখ্য প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নৌকায় করে ঢাক, ঢোল ও কাঁসর বাজিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন নদীর দুই পাড়ের মানুষ।

মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে দেবহাটার টাউন শ্রীপুর সীমান্ত এলাকা হয়ে ওঠে লোকে লোকারণ্য। দুপুরের মুধ্যেই দুই পাড়ে জড়ো করা হয় বিপুল সংখ্যক প্রতিমা। ওপারে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) ও এপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সতর্ক প্রহরার মধ্যে দর্শনার্থীদের ভিড়ে ঠাসা ছিল ইছামতি নদী ঘাট। শত শত নৌকায় দর্শনার্থী নর-নারীরা আনন্দে মেতে ওঠেন। তারা বাদ্য বাজিয়ে আতশবাজি ফাটিয়ে আনন্দ উৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষ নদীর মধ্যসীমা অতিক্রম না করেই নিজ নিজ সীমানায় বিসর্জন ক্রিয়ায় নিজেদের মিলিয়ে ফেলেন। এর আগে বিজিবি ও বিএসএফ যৌথ সমাবেশ করে দুই দেশের নিরাপত্তা বিষয়ক কৌশল গ্রহণ করে। এর সাথে যুক্ত হয় দেবহাটা উপজেলা পরিষদ ও ভারতের টাকি পৌরসভা। মিলন মেলায় অংশ নেয়া দেবহাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল গনি বলেন, বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি হিসেবে দুই বাংলার এই মিলন মেলা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শত বছর ধরে এই মেলা হয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় একাকার হয়ে যায় সব ধর্ম বর্ণের মানুষ। তারা পরস্পরকে শারদীয়া শুভেচ্ছা জানান। ভারতের পশ্চিম বাংলার টাকি পৌরসভার মেয়র সোমনাথ চ্যাটার্জি বলেন, প্রতি বছর আমরা এই দিনটির অপেক্ষায় থাকি। এদিন দুই বাংলার মানুষ তাদের ভৌগলিক সীমানাকে পেছনে ফেলে একাকার হয়ে যায়। আজ উমাদেবী মর্ত্যধাম থেকে স্বামীগৃহে চলে যাচ্ছেন। আমরা মায়ের কাছে ‘পুত্রং দেহি, ধনাং দেহি, মঙ্গল দেহি, শান্তি দেহি, ফল দেহি’ মন্ত্র পাঠ করে তাকে বিদায় দিতে এসেছি। তিনি চলে গেলেন কৈলাসধামে, স্বামী শিবের সান্নিধ্যে।

সকাল থেকেই ইছামতির দুই তীর হয়ে ওঠে জনারণ্য। সেই সঙ্গে বসে মেলা। এতে শত রকমের কুটির শিল্প সামগ্রী বিশেষ করে, কাঠ, বাঁশ, বেতের তৈরি সামগ্রী ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলনা ও প্রসাধন সামগ্রী ছাড়াও মেলায় এসেছিল মাটির তৈরি তৈজষপত্র। দূর এলাকা থেকে আসা মানুষ এই মেলায় নিজেদেরকে যেন হারিয়ে ফেলেন। ঘোড়ায় চড়ে কৈলাস থেকে চিরশান্তির বরাভয় নিয়ে মর্ত্যভূমিতে এসেছিলেন দেবী দুর্গা। মিলনমেলার মধ্য দিয়ে ‘মা তুমি আবার এসো’ এই আহ্বান রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিদায় দিলেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে।

২০১৩ সালের সহিংস ঘটনাবলীর সময় থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইছামতি নদীর এই মিলন মেলা বন্ধ হয়ে যায়। গত দুই বছর ধরে ফের শুরু হয়েছে মিলনমেলার অনুষ্ঠান।

About admin

Check Also

তাজিয়া মিছিলে বর্শা, বল্লম, ছুরি, কাঁচি, তরবারি নিষিদ্ধ

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলে দা, ছুরি, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আঁতশবাজি …

ভারতে মহানবী (সা:) কে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে নওগাঁয় বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

তমাল ভৌমিক, নওগাঁ থেকেঃ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে নিয়ে ভারতে কটুক্তির প্রতিবাদে নওগাঁয় বিক্ষোভ …

শেরপুরের ঐতিহ্য মাইসাহেবা জামে মসজিদ

আলমগীর হোসাইন ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর জেলা শহরে পা রাখলে প্রথমেই যে পুরোনো ঐতিহ্য চোখে পড়বে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *