বৃহস্পতিবার , আগস্ট ১১ ২০২২
Home / সারা দেশ / কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পলিথিন পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে তেল ও গ্যাস **

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পলিথিন পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে তেল ও গ্যাস **

 কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পুড়ছে পলিথিন, তৈরি হচ্ছে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও গ্যাস। পুড়ে যাওয়া পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল তৈরি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে সাড়া জাগিয়েছেন উপজেলার কাঁচকোল নতুন গ্রামের মারুফ। এক চীনা ব্যক্তির পরামর্শ আর ইন্টারনেট থেকে দেখে চেষ্টা, আর চেষ্টা থেকে মারুফের আবিষ্কার এখন সবার মুখে মুখে শুধু তাই নয় পুরো উপজেলা জুড়ে ফেলেছে ব্যাপক সাড়া। দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ এসে ভিড় জমাচ্ছে তার এই তৈরি করা পদ্ধতি ও জ্বালানি দেখতে। এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে বেকারদের বেকারত্ব দূর করার পরিকল্পনা এখন মারুফের মাথায়। জানা গেছে, উপজেলার কাঁচকোল নতুন গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মারুফ। অভাবী সংসার তাই পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির চেষ্টার কমতি ছিল না। এর মধ্যে পড়াশোনা শেষ করলেও জোটেনি সরকারি চাকরি।

তাই বিভিন্ন স্থানে বেসরকারি চাকরি করেন। সরকারি চাকরি না পাওয়া আর বেসরকারি চাকরির মালিকের চাপ তার ভেতরে একটা ইচ্ছা শক্তি জাগিয়ে তোলে। তিনি নিজের এবং সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করবেন। এর মধ্যেই একটি কোম্পানিতে কাজ করার সময় পরিচয় হয় এক চীনা ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি তাকে পলিথিন পুড়িয়ে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও এলপি গ্যাস তৈরি করার কথা বলেন। পরে মারুফ ইন্টারনেটে ভিডিও দেখেন এবং তা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন।
সিদ্ধান্ত থেকেই গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন এবং পরিচিত দুইজন রিয়াজুল ও হাফিজুরকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন পলিথিন পুড়িয়ে জ্বালানি এই তেল, পেট্রোল, অকটেন ও গ্যাস তৈরির। পরিকল্পনা মোতাবেক পরিত্যক্ত পলিথিন যত্রতত্র ফেলে না দিয়ে এগুলো সংগ্রহ করে একটি আবদ্ধ প্রকোষ্ঠ ড্রামের ভেতরে রেখে আগুনে অতিমাত্রায় তাপ প্রয়োগ করে গলিয়ে ফেলা হয়। বাষ্পীয় হয়ে নল দিয়ে ডিজেল এবং পেট্রোল অকটেন বের হয়। সর্বশেষ পাইপ দিয়ে গ্যাস বের হলে সেখানে আগুন দিলে আগুন লেগে থাকতো। যত তাপমাত্রা বেশি দেয়া হতো ততো বেশি তরল পদার্থ নির্গত হয়। সেই সঙ্গে গ্যাস বের হয়। এসব সংগৃহীত তরল পদার্থ দুটি পদ্ধতিতে পরিশোধন করা হয়। এক ছাকন পদ্ধতি দুই থিতানো পদ্ধতি। এই তরল পদার্থগুলো হাইড্রোকার্বন এবং এগুলোর ধর্ম এবং বর্ণ ডিজেল পেট্রোল অকটেন এবং নির্গত গ্যাস এলপি গ্যাসের মতো। তার এই তৈরির কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এক নজর দেখতে ভিড় জমান মারুফের বাড়িতে। মারুফ জানান, প্রতিদিন ১০০শ’ কেজি পলিথিন পুড়িয়ে প্রায় ৮০ লিটার তেল তৈরি করা সম্ভব এর মধ্যে ডিজেল প্রায় ৬০ লিটার বাকিটা পেট্রোল, অকটেন ও গ্যাস। আর এই পদ্ধতি চালু রাখার জন্য টাকার প্রয়োজন এবং অনেক পলিথিনের প্রয়োজন। এই জন্য মারুফ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। মারুফ আরো জানান এই পদ্ধতির মাধ্যমে বেকার সমস্যারও সমাধান হবে; তাই আশা করছি সকলের সহযোগিতা পাবো। এলাকার কয়েকজন জানান, তারা এই পদ্ধতির তেল দিয়ে মেশিন ও গাড়ি চালাচ্ছেন।

About admin

Check Also

চিলমারীতে সোনালী ব্যাংকের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর

চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ সোনালী ব্যাংক লি. এর অনলাইন সেবার মাধ্যমে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে থানাহাট এ ইউ পাইলট সরকারি …

চিলমারীতে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর ৯২ তম জন্মবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর ৯২তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। চিলমারী উপজেলা …

ফেসবুকে অস্ত্রের ছবি পোস্ট করে যুবক আটক

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার পরকোট ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতের নাম সোহরাব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *