সোমবার , জানুয়ারি ১৭ ২০২২
Home / সারা দেশ / বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরে যুবলীগের পদ ব্যবহার করে কুলি শ্রমিক মিজু এখন কোটিপতি **
Exif_JPEG_420

বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরে যুবলীগের পদ ব্যবহার করে কুলি শ্রমিক মিজু এখন কোটিপতি **

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামে বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়ন যুবলীগের  সাধারণ সম্পাদকের পদবীকে ব্যবহার করে মাদক, চোরাচালান, ভূমিদস্যুর মাধ্যমে কোটিপতি হয়েছেন কুলি শ্রমিক মিজানুর রহমান মিজু। সরকারি জমি দখল করে গড়ে তুলেছেন বিলাস বহুল ৫তলা ভবনসহ একাধিক বাড়ি। নামে-বেনামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা গেছে, বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজু। তিনি আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ-পদবির অপব্যবহার করে অপরাধ জগতে নাম কুড়িয়েছেন। মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা বিলাস বহুল ৫তলা ভবন, ১৪ বিঘা জমি, আমদানি রপ্তানিকারক ধনাঢ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ট্রাক, স্বর্ণালংকার  ছাড়াও নিকটাত্মীয়দের নামে-বেনামে অপ্রদর্শিত সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। মিজুর এতসব বিত্ত বৈভবের পিছনে বড় আশির্বাদ যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের পদ।  এ পদের গুণেই মিজু একাধারে মাদক ও ইয়াবার গডফাদার, জুয়া, হুন্ডি চোরাকারবারি, দখলবাজি, দূর্নীতি, ভূমিদস্যুতাসহ সামাজিক নানাবিধ অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।

সীমান্তবর্তী এলাকায় সোনাহাট স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার সুবাদে মিজুর অপরাধ কর্মের সৌভাগ্যের দুয়ার খুলে যায়। মিজু প্রথমে স্থলবন্দর  কুলি শ্রমিকের সদস্য হয়। এরপর  ট্রাক লড়ি কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের দলে চলে যায়। এখান থেকে ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য পদ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে এক লাফে সাধারণ সম্পাদকের পদে উন্নিত হয়।  যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়ে মিজু চরম বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এলাকায় গড়ে তোলে যুব- কিশোর গ্যাং বাহিনী এবং আধিপত্য বিস্তার করে স্থলবন্দর এলাকায়।  স্থানীয় ভূমি সহকারী কর্মকর্তার যোগসাজশে জাল দলিল, ভূয়া কাগজপত্র, সীল ও স্ট্যাম্প তৈরি করে গ্যাং বাহিনী দিয়ে অত্র স্থলবন্দরের একের পর এক গরিব নিরীহ মানুষদের বাড়ি ঘর ও বিঘার পর বিঘা জমি জবর দখল করতে থাকে এবং জমির মালিকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে থাকে।

এছাড়াও জমির মালিকদের জমি দখল ও মিথ্যা মামলার ভয় ভীতি দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। জায়েদা খাতুন, আঃ মোন্নাফ, ৮০ উর্ধ্বে বৃদ্ধ হাসর উদ্দিন, নজরুল, আহম্মদ, সিরাজুল, আয়নাল, ময়নুল আঃ রাজ্জাক, আউয়াল, জব্বার, হেলেনা, প্রতিবন্ধি বিলকিস ও হবি ছাড়াও গণস্বাক্ষরে স্বাক্ষরকারী  অনেকেই মিজু কর্তৃক অপরিসীম ক্ষতি ও চরম পরিণতির শিকার হয়। আবু সুফিয়ান মিজুর উপর্যুপরি আক্রমণ আর মিথ্যা মামলায় টিকতে না পেরে হার্ডএ্যাটাকে মারা যায়। শুধু তাই নয় আতঙ্ক সৃষ্টি করে মোন্নাফ ও জায়দা দম্পতিকে মিজু এলাকা ছাড়া করেছে।

এদিকে, মিজু নামে মাত্র “মিসেস মিশু এন্ড মাহি এন্টারপ্রাইজ” ব্যবসায়ী সাইবোর্ডের আড়ালে পাথরের ট্রাকে ভারত থেকে আনতে থাকে ইয়াবা, মদ ও ফেন্সিডিলের চালান। সোনাহাট স্থলবন্দর ও সীমান্ত এলাকা জুড়ে গড়ে তোলে মাদক বাণিজ্যের বিশাল সা¤্রাজ্য।

About admin

Check Also

ভূরুঙ্গামারীতে ব্যক্তি উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

  ভূরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ ভূরুঙ্গামারীতে ব্যক্তি উদ্যোগে দুঃস্থ্যদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার ( ১২ জানুয়ারি …

রাজারহাটে সাংবাদিকদের সঙ্গে এলজিআরডি’র যুগ্ম সচিবের মতবিনিময় ও শীতবস্ত্র বিতরণ

রফিকুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও রাজারহাট উপজেলার কৃতি …

ভূরুঙ্গামারীতে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

ভূরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ ভূরুঙ্গামারীতে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে পত্রিকার হকার ও দুঃস্থ্যদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার সকালে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *