মঙ্গলবার , ফেব্রুয়ারি ২০ ২০২৪
Home / গান / বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও উজ্জীবিত বাংলাদেশ সাহিত্য ভাবনা ও বাংলা ভাষা

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও উজ্জীবিত বাংলাদেশ সাহিত্য ভাবনা ও বাংলা ভাষা

নাসরিন নাজ, আলম নগর, রংপুরঃ 

বাঙালি জাতির মুক্তির পথ প্রদর্শক, স্বপ্নদৃষ্টা, জাতির ভাগ্য গঠনের নিয়ন্তা হয়েছিলেন ৭১ এর অগ্নি ঝরা মার্চে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ঐতিহাসিক ভাষণের খবর কে না জানেন, কতটা বলিষ্ঠ কন্ঠে জাতির জন্য কতটা আবেদন, একটি বার হৃদয় দিয়ে ভাবুন।

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করতে আত্মশক্তির বিকাশ ঘটিয়েছে, মানুষ হয়েছে সংগঠিত। প্রত্যেক ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তুলতে এবং যার যা কিছু আছে তা নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা বলার মাধ্যমে সেই স্বাধীনতা
অর্জনের সশস্ত্র প্রত্যয় ঘোষণা করেন।

এছাড়াও বলেছেন, আমি যদি নাও থাকি, অথবা আমি যদি হুকুম দিতে নাও পারি।

কি বলিষ্ঠ উচ্চারণ কতটা আন্তরিকতা, দেশপ্রেম, ভালবাসা, যা-দিয়ে জাতির মুক্তির আন্দোলন সকল স্তরের মানুষের মাঝে সুসংগঠিত হওয়ার আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে।

৭ই মার্চের ভাষণ ছিলো এক ঐতিহাসিক ভাষণ, আমার মতে জাতির শ্রেষ্ঠ ভাষণ। জাতির মুক্তির জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠেছিল, মানুষ হয়েছে উজ্জীবিত, অনুপ্রাণীত ও সুসংগঠিত, বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের লক্ষ্য ছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

এটি বলাই যায় ৭১ সালের মার্চের বাংলাদেশের প্রথম শাসক ছিলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এছাড়াও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বব্যাপী দৃঢ় মনোবল সম্পন্ন একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে সমাধীক পরিচিত। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন রাজনৈতিক নেতা, নেতার বৈশিষ্ট্য ও কর্মদক্ষতায় তাকে সকলে জাতির জনক বলেন। তিনিই বাংলা দেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি।

রাজনৈতিক সমস্ত কাজের পাশাপাশি তিনি ভেবেছেন সাহিত্য, চলচ্চিত্র, ও খেলাধুলা নিয়ে। অসমাপ্ত আত্মজীবনী
(২০১২) ও কারাগারের রোজনামচা (২০১৭) প্রকাশ হবার পর তাঁকেও চিনেছি লেখক হিসেবে।
বাংলাদেশ, বাংলাভাষা, বাঙালি জাতি, বাংলা সাহিত্য এসকল বিষয়ের উপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছিলো গভীর প্রেম ও ভালবাসা।

বাংলা সাহিত্য, বাংলা ভাষা, তথা বাঙালি সাহিত্য সংস্কৃতি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাবনার খোঁড়াক পাওয়া যায় ১৯৭৪ এর ১৮ জানুয়ারী, আওয়ামিলীগের দ্বিবার্ষিক অধিবেশনের ভাষণে। তিনি বলেন আমরা বাঙালি, আমরা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি,আমি যদি ভুলে যাই আমি বাঙালি, সেদিন আমি শেষ হয়ে যাবো। আমি বাঙালি বাংলা আমার ভাষা, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার মাটি, বাংলার মাটিতে মরবো,বাংলার কৃষ্টি বাংলার কৃষ্টি সভ্যতা।

এ বক্তব্য বঙ্গবন্ধুর অনুরাগ ও ভালবাসা স্পষ্ট ভাবে বোঝা যায়। বাংলা ভাষা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তার কতটা গভীরতা ছিলো। ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি ভালবাসা প্রেম অনুরাগ ও গভীরতা থেকেই বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষার আন্দোলনে পালন করেছে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা। তিনি বলেছেন আমি তখন ঢাকা মেডিকেলে বন্দী অবস্থায় চিকিৎসাধীন, সেখানেই স্থীর হয় রাষ্ট্র ভাষার উপর, আমার দেশের উপর, যে আঘাত হয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারী তার মোকাবিলা করতে হবে।

১৬ ফেব্রুয়ারী আমি জেলের মধ্যে অনশন ধর্মঘট শুরু করবো, আর ২১ ফেব্রুয়ারী আন্দোলন শুরু হবে। জেলে দেখা হয় বরিশালের মহিউদ্দিন সাহেবের সাথে তাকে আন্দোলন সম্পর্কে জানানো হলো, তিনি বললেন আমিও অনশন ধর্মঘটে অংশ নেবো।

১৬ ফেব্রুয়ারী অনশন ধর্মঘট হলো, আমাদের জেল পরিবর্তন করে ফরিদপুর জেলে নেয়া হলো, সূচনা হলো রাষ্ট্র ভাষার আন্দোলন।

জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশনে বাংলায় বক্তৃতা দিয়ে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। বাংলা ভাষায় সংবিধান রচনা করার ক্ষেত্রে তার ছিলো অনন্য ভূমিকা, আদালতের রায় লেখার নির্দেশ তিনিই দেন।

১৯৭১ সালের ১৫ ফেরুয়ারী বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, আমি ঘোষণা করছি আমাদের হাতে যেদিন ক্ষমতা আসবে, সেদিন থেকেই দেশের সর্বস্থরে, বাংলা ভাষা চালু করতে হবে।

 

About admin

Check Also

(উনিশে মে নিয়ে লেখা)  মাতৃভাষা ভারত পশ্চিমবঙ্গ কোচবিহার                  তুলোশী …

(গান) না-না-না তুলোশী চক্রবর্তী ____________ না-না-না,মিটে না গো মিটে না তারে দেখার সাধ আমার মিটেনা, …

নববর্ষে আজ সারাদিন-নাদিয়া ইসলাম

কবিতার নাম:নববর্ষে আজ সারাদিন চৈত্র শেষে বৈশাখ এল, কালবৈশাখী ঝড় এসে সব লন্ডভন্ড করলো। কালো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *