বুধবার , অক্টোবর ৫ ২০২২
Home / স্বাস্থ্য / করোনা ভাইরাস নিয়ে কিছু সহজ প্রশ্ন, গুজব ও বাস্তবতা

করোনা ভাইরাস নিয়ে কিছু সহজ প্রশ্ন, গুজব ও বাস্তবতা

করোনা ভাইরাস নিয়ে পুরো পৃথিবীর মানুষ এখন আতংকিত প্রতিরোধ করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যাোগে ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চালানো হচ্ছে যাতে এই ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়তে পারে। সেজন্যই আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র।
#  করোনায় শিশুদের আশঙ্কা কি বেশি?
শিশুদের নিয়ে আলাদা করে কোনো আশঙ্কা নেই, যে কোনো বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন৷ আক্রান্তদের পাঁচ জনের চারজনের ওপর এই ভাইরাস সাধারণ ঠান্ডা-জ্বরের মতোই প্রভাব ফেলবে৷ এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হওয়া রোগীদের বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে শিশু ও তরুণ বয়সিরা স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়েই সংক্রমণ কাটিয়ে উঠতে পারেন৷ মধ্যবয়সিরা এতে আক্রান্ত হলেও পর্যাপ্ত সেবা ও চিকিৎসায় তাদেরও সেরে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ৷
# করোনা ভাইরাস কি খেলে ঠেকানো যাবে করোনা?
কোনো কিছু খেয়েই করোনা ঠেকানো যাবে না৷ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখার জন্য সুষম খাবার এমনিতেই প্রয়োজন৷ অনেকেই অনলাইনে গুজব ছড়াচ্ছে৷ কেউ রসুন খাওয়ার কথা বলছেন, কেউ ব্লিচিং বা অন্য রাসায়নিক দ্রব্যের কথা বলছেন৷ রসুনে নানা উপাদান রয়েছে যা শরীরের জন্য ভালো৷ রসুন খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে তা ভূমিকা রাখতে পারে৷ তবে ব্লিচিং বা অন্য রাসায়নিক শরীরে গেলে তা করোনা ভাইরাসের চেয়েও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে৷
#  করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গরম বা ঠান্ডা পানি পান করা উচিত?
নিয়মিত পানি পান করলে শরীরের জন্য ভালো৷ কিন্তু ১৫ মিনিট পর পর গরম পানি পান করলে ভাইরাস মারা যাবে, এমন তথ্য সঠিক নয়৷ মুখে বা শরীরে একবার ভাইরাস প্রবেশ করলে কোনো খাবার বা পানীয় দিয়েই তা আটকানো যাবে না৷ শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেই এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে সক্ষম৷
# করোনা ভাইীাস অ্যান্টিবায়োটিক বা কোনো ওষুধে কাজ হবে?
অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের জন্য কার্যকর, ভাইরাসের জন্য নয়৷ কোনো কোনো ক্ষেত্রে অসুস্থ শরীরে ভাইরাসের পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণও হতে পারে৷ সেসব ক্ষেত্রে চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন৷ এখনো নভেল করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি৷ বিভিন্ন সংস্থা প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷বাংলাদেশের গনস্বাস্থ্য করেনার টেষ্টকিট তৈরী করেছে তেমনি  শিগগিরই হয়তো আসবে নতুন নতুন সুখবর৷
# করোনা ভাইরাস আবহাওয়া ও তাপমাত্রার কোনো প্রভাব রয়েছে?
এ বিষয়ে এখনো বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত নন৷ পরীক্ষাগারে দেখা গেছে ৬০ থেকে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভাইরাস মারা যায়৷ কিন্তু এত উচ্চ তাপমাত্রা কোনো দেশেই থাকে না৷ অনেকে মনে করছেন গরম পানি দিয়ে স্নান করলে ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে৷ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা সবসময় জরুরি৷ কিন্তু প্রচণ্ড গরম পানি দিয়ে স্নান করলেই তা করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচাবে, এমন তথ্য সঠিক নয়৷
# করোনা ভাইরাস থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে কি শনাক্ত সম্ভব?
থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে শরীরে তাপমাত্রা বোঝা সম্ভব, ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চত করা সম্ভব না৷ সেক্ষেত্রে কারো শরীরে জ্বর বা অন্য উপসর্গ দেখা দেয়ার আগ পর্যন্ত তার শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি বোঝা যাবে না৷ সাধারণত ভাইরাস শরীরে ঢোকার ১ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৫ দিনের মধ্যেই তা টের পাওয়া যায়৷ তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৪ দিনের পরও ভাইরাস শরীরে কর্মক্ষম থাকতে পারে৷
# করোনা ভাইরাস টাকার মাধ্যমে কি ছড়ায়?
শরীরের বাইরে করোনা ভাইরাস কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে৷ ফলে আমদানি করা কোনো পণ্য বা চিঠির মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা নেই বললেই চলে৷ ময়লা টাকা থেকে যেকোনো জীবাণুই ছড়াতে পারে৷  ফলে টাকা লেনদেনের পর ভালো করে হাত ধুয়ে নেয়া উচিত৷ যত বেশি সম্ভব হাত-মুখ-নাক-কানে হাত নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে৷
# করোনা ভাইরাস  মশা মাছি বা অন্য পশুর মাধ্যমে ছড়াতে পারে­?
সার্স ভাইরাস ছড়িয়েছিল এক ধরনের বেড়াল থেকে৷ মার্স ছড়িয়েছিল উট থেকে৷
নভেল করোনা ভাইরাস কিভাবে ছড়ালো বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত নন৷ ধারণা করা হচ্ছে, বাদুড় থেকে অন্য কোনো মাধ্যম হয়ে মানুষের মধ্যে এটি ছড়িয়েছে৷ তবে মশা বা অন্য কোনো প্রাণীর মাধ্যমে এটি আপনার মধ্যে ছড়াবে না৷ সতর্কতা হিসেবে মাছ-মাংস খাওয়ার আগে ভালোভাবে রান্না করতে হবে৷ অর্ধেক সিদ্ধ মাছ-মাংস বা পোচ করা ডিম থেকে যেকোনো জীবাণুই ছড়াতে পারে৷
# করোনা রোধে মাস্ক কতটা জরুরি?
ইতিমধ্যেই বাজারে মাস্কের অভাব দেখা দিয়েছে৷ মানুষের ভীতিকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা টাকাও কামিয়ে নিচ্ছেন৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাস্ক আপনার জন্য সবসময় জরুরি নয়৷ বাজারে পাওয়া সাধারণ মাস্ক ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না৷ বরং যারা চিকিৎসা সেবার সঙ্গে জড়িত এবং যারা এরই মধ্যে আক্রান্ত, তাদের জন্য মাস্ক সবচেয়ে বেশি জরুরি৷ তাই যাদের প্রয়োজন, তাদের মাস্ক কেনার সুযোগ করে দিন৷ এতে আপনার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমবে৷
# করোনা থেকে কিভাবে থাকবো নিরাপদ?
সবচেয়ে জরুরি হাত পরিষ্কার রাখা৷ সাবান দিয়ে হাত ভালো করে ২০ সেকেন্ড পরিষ্কার করতে হবে৷ যদি সাবান না থাকে, ব্যবহার করতে পারেন অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার৷ হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় টিস্যু ব্যবহার করে তা ডাস্টবিনে ফেলুন, হাত ধুয়ে নিন৷ অথবা হাতের কনুইয়ে মুখ ঢাকুন৷ হাতের তালুতে হাঁচি-কাশি দিলে সেখান থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে আক্রান্ত হতে পারেন অন্যরা৷ বর্তমানে হ্যান্ডশেক বা হাত মেলানো ও কোলাকুলি থেকেও বিরত থাকুন৷
# করোনা হলে আমি কী মারা যাবো?
করোনায় আক্রান্ত হলেই আপনি মারা যাবেন,এমন আশঙ্কা একেবারেই কম৷ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করুন৷ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলুন৷ অনলাইনে যা দেখবেন, সব বিশ্বাস না করে নির্ভরযোগ্য তথ্যের সন্ধান করুন৷ সাবান, স্যানিটাইজার নিজে কিনে জমিয়ে রাখবেন না৷ আপনি নিরাপদ থাকলেও আপনার আশেপাশের মানুষ নিরাপদ না থাকলে সহজেই তার কাছ থেকে ছড়াবে ভাইরাস৷
ফলে নিজে নিরাপদ থাকুন, অন্যদেরও নিরাপদ থাকার সুযোগ দিন৷ এভাবে করোনা ভাইরাস থেকে  নিরাপদ থাকা এখন জরুরি  বিষ।
লেখক,সাংবাদিক, প্রকাশকঃ নাসরিন নাজ,

About admin

Check Also

কুড়িগ্রামে নিজ ঘরে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় আমিনুল ইসলাম (৪০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে …

চিলমারীতে “মানবতার ডাক” সেচ্ছাসেবী সংগঠনের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি পালিত

চিলমারী প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নে “মানবতার ডাক” সেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপি বিনামূল্যে রক্তের …

কাউনিয়ায় পুত্র বঁধুর মারপিটে শ্বাশুড়ি হাসপাতালে : পুত্র বঁধু আটক

আব্দুল কুদ্দুছ বসুনিয়া,বিশেষ প্রতিনিধি কাউনিয়া( রংপুর)থেকেঃ কাউনিয়ায় পুত্র বঁধুর মারপিটে বৃদ্ধ শ্বাশুড়ি আয়শা বেগম (৬০) …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *