শুক্রবার , জানুয়ারি ২৭ ২০২৩
Home / স্বাস্থ্য / সন্দ্বীপের কলম্বাসের প্রয়াণ

সন্দ্বীপের কলম্বাসের প্রয়াণ

কোলকাতায় গেছেন জাহাজে চাকরির সুবাদে। সমুদ্রগামী জাহাজ। সেখানেই পেলেন ‘সোনা’র খোঁজ। কেউ একজন তাঁকে শোনালেন- “সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দেয়ার পর যে অতলান্ত মহাসাগর, তার ওপারে সোনা মেলে। সোনা।” খুব অল্পবয়সী আব্দুল হাদী নেমে পড়লেন সোনার খোঁজে। সেই উনিশ শ’ চল্লিশের দশকের শেষার্ধে। তাঁর কথা- উনিশ শো পঁয়তাল্লিশ কি ছেচল্লিশ সাল।

আমেরিকায় সন্দ্বীপীদের আধিক্যের মূলে যে ক’জন মানুষ, আব্দুল হাদি তাদের একজন। তাকে সন্দ্বীপের কলম্বাস বলেন অনেকে। তার সমসাময়িকদের সবাই গত হয়েছে অনেক আগেই। শেষ প্রদীপটা ছিলেন তিনি। শনিবার রাতে তিনি গত হয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন।

বার্ধক্য বললে ভুল হবে। মহা বার্ধক্য। আমি যখন নিউ ইয়র্কে আসি, সেই সাড়ে চার বছর আগে, তখনও শুনেছি তিনি নিজে নিজের কাজ করেন। কাপড় চোপড় ধোয়াও। বয়স তাঁর একশো বছর ছাড়িয়েছে তখনো। সতেরোতে একটা পিকনিকে গিয়ে তাকে বেশ প্রাণবন্ত পেয়ে কথা বলেছিলাম, দীর্ঘ ত্রিশ মিনিটের একটা ইন্টারভিউ। অনেক কিছু বলেছিলেন সেদিন। অনেক ইতিহাস তুলে দিয়েছিলেন। এরপর, আরো একবার তাঁর সাথে আলাপ। ফেসবুক লাইভে।

বছর খানেক ধরে ভালো যাচ্ছিলো না আব্দুল হাদীর শরীর। একারণে, তাঁকে সামনে রেখে নিউ ইয়র্কে বাঙালিদের অভিবাসনের ইতিহাস নিয়ে একটা প্রামাণ্যচিত্র বানানোর পরিকল্পনাও শ্লথ হয়ে যায়। শুক্রবার তাঁর ছোট ছেলে, সন্দ্বীপ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি আব্দুল হান্নান পান্না জানালেন, “আব্বা অসুস্থ। হাসপাতালে”। আর, শনিবার রাতে তিনি চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে।

আব্দুল হাদী কিংবদন্তি। অভিবাসনের অগ্রপথিক। অভিবাসীদের নিয়ে প্রামাণ্যচিত্রটি বানানোর আলোচনা করছিলাম নিউ ইয়র্ক সিটির কর্মকর্তা শাহানা হানিফ এর সাথে। তিনি বললেন, এমন একজন মানুষকেতো সিটি থেকে “সম্মাননা” দেয়া উচিত। এরপর, শাহানার উদ্যোগে গতবছরের মার্চে সিটি সম্মানিত করে এই অগ্রদূতকে। চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউ এলাকায় ডিস্ট্রিক্ট থার্টি নাইনের কাউন্সিল মেম্বার ব্র‍্যাড লেন্ডার আব্দুল হাদীর হাতে তুলে দেন সম্মাননাপত্র।

আব্দুল হাদীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটা যুগের অবসান হলো। আট দশক আগে, তিনি যে মশালে হাতে নিয়ে সামনে এগিয়ে গেছেন, কালের বিবর্তনে সেটি আমেরিকার বুকে একটা জনগোষ্ঠী মাথা উঁচু করে দাঁড় করিয়েছে। আব্দুল হাদীদের কল্যাণে আমেরিকায় এখন বাংলাদেশীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আর প্রভাবশালী জনগোষ্ঠী সন্দ্বীপের। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব সরকারী বিভাগ আর পেশায় সন্দ্বীপীদের পদচারণা।

আব্দুল হাদীরা এজন্য নমস্য। পূজনীয়।
তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।
প্রার্থনা, তিনি যেনো জান্নাতের সেরাটি অর্জন করেন।

About admin

Check Also

ভূরুঙ্গামারীর শিক্ষা কর্মকর্তার স্ত্রীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সহকারি উপজেলা মাধ‍্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে …

মাসুম আজিজের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনয়শিল্পী ও নাট্যকার মাসুম আজিজের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী …

দূষণ করলে দায়ও নিতে হবে

টানা পঞ্চম বারের মতো বিশ্বে প্লাস্টিক দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে বহুজাতিক কোম্পানি কোকা-কোলা। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *