শনিবার , জুন ১৫ ২০২৪
Home / সারা দেশ / পুস্পমাল্য বিনম্র শ্রদ্ধা ্র একটি মানচিত্র

পুস্পমাল্য বিনম্র শ্রদ্ধা ্র একটি মানচিত্র

বুলবুল,ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ

আজ ১৫ই আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মানবতার শত্রæ প্রতিক্রিয়াশীল বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক, বিশ্বের লাঞ্ছিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের মহান নেতা, বাংলা ও বাঙালির হাজার বছরের আরাধ্য পুরুষ, বাঙালির মুক্তি প্রেরনার চিরন্তন  উৎস, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তাঁর শরীরে ছিলো ১৮টি গুলি।

ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এই হত্যাকান্ডে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী মহিয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভ্রাতা শেখ আবু নাসের, জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেল, নবপরিণীতা পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ও জাতির পিতার ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও তাঁর ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ ও কর্তব্যরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নৃশংসভাবে নিহত হন। ঘাতকের ১৮টি বুলেট বঙ্গবন্ধুর দেহ ক্ষত-বিক্ষত করেছিলো। নিরব, নিথর দেহ নিয়ে সিঁড়ির উপর মুখ থুবড়ে পড়েছিলো বাংলার মানচিত্র।

সেদিনের শহীদদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সব শ্রেনী পেশার মানুষ সহ ফরিদপুরের ডিসি অতুল সরকারের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারিবৃন্দ। এ সময় নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনাও করা হয়। শুধু তাই নয় ফরিদপুরের সুযোগ্য পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান বিপিএম (সেবা) পুলিশ লাইনে পুস্পমাল্য প্রদান সহ মিলাদ এর মাধ্যমে নিহতদের আত্মার প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন ও মাগফিরাত কামনা করেন।

এদিকে দিনটি উদযাপন করতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ নানামুখি কর্মসূচি পালন করেন, পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সহ সহযোগি সংগঠন আলোচনাসভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন সহ প্রতিটি উপজেলায় শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদ-মন্দির ও উপসানালয়ে তাদের বিদেহী আত্মার প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপনকরা হয়।

আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর “অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজ নামচা” থেকে অনেক উদ্ধৃতি তুলেধরা হয়। আবেগঘন স্মৃতি রোমন্থন করে বলা হয় “রেনু’ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব (বঙ্গমাতা) মাত্র দুই দিন আগে ২৩ মার্চ পাকিস্থান দিবসে নিজের ভাতের থালায় পানি ঢেলে দিয়েছিলেন। ভাত খাননি। মুজিব যথারীতি তাঁর সঙ্গে খেতে বসেছিলেন।

রেনু জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘ইয়াহিয়ার সঙ্গে নাকি তোমার সমঝোতা হচ্ছে ?’

মুজিব কিছু না বলে খেতে থাকেন।

‘সমঝোতা কোরো না’। রেনু বলেন।

মুজিব রেগে গিয়ে বলেন ‘আলোচনা হচ্ছে। এখনো কিছু হয় নাই’।

রেনু বলেন, ‘খবরদার, তুমি আপস করবে না। কিসের সমঝোতা ইয়াহিয়ার সঙ্গে। তুমি যদি সমঝোতা করো, দেশের মানুষ তোমার ওপর ক্ষুব্ধ হবে। তারা আর তোমার সঙ্গে থাকবে না। তখন যেকোনো সময় ইয়াহিয়া তোমাকে মেরে ফেলতে পারবে’।

মুজিব আরও রেগে গিয়ে বলেন,‘আরে বললাম তো সমঝোতা হয় নাই। আলোচনা চলছে ’।

রেনু নিজের ভাতের মধ্যে পানি ঢেলে দেন। সারা দিন তিনি আর ভাত খাননি। দুপুরে খাননি, রাতে খাননি।

শেষে মুজিব তাঁকে বললেন, ‘তুমি আমাকে এই চিনলা, আমি পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রিত্বের জন্য বাংলাদেশের মানুষের সাথে বেইমানি করব ? আমার জীবন যেতে পারে, কিন্তু আমি দেশের মানুষের মুক্তি ছাড়া আর কিছু চাই না। ওঠো, ভাত খাও।’

বেগম মুজিব খাবার টেবিলে বসলেন। মুজিবও বসলেন। খাওয়ার পরে তিনি তাঁর পানের বাটাটা নিয়ে খুব যতœ করে পান বানালেন। একটা নিজের জন্য অন্যটা হাসুর আব্বার জন্য।

মুজিব পান চিবুতে চিবুতে ভাবলেন, এই ছোটখাটো মানুষটা রাজনীতির এমন জটিল সমীকরণ এত সহজ করে বোঝে কী করে। যেমন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে লাহোরের গোলটেবিল বৈঠকে যাওয়ার আইয়ুব খানের প্রস্তাব রেনু ‘না’ করে দিয়েছিলেন। তিনি হাসুকে দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বন্দী মুজিবকে, ‘খবরদার, তুমি প্যারোলে মুক্তি নেবে না। তোমাকে নিঃশর্তভাবে ছাড়তে হবে।’

এভাবে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুর হয়েছে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিুবুর রহমান এর জীবনীর উপর ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে আলোচনা সভা। জুম ক্লাউড অ্যাপের মাধ্যমে এ আলোচনা সভা শুরহয় সকাল ১০ টায়। একই সাথে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে সম্পন্নকৃত চিত্রাঙ্কন, কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে আয়োজিত আলোচনা সভায় ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, সংবাদ কর্মীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণ অংশগ্রহন করছেন।

অন্য আর এক আলোচনা সভায় ইতিহাসের উদ্ধৃতি তুলেধরে বলা হয় বঙ্গবন্ধু সরকারের আইনমন্ত্রী ছিলেন মনোরঞ্জন ধর। বঙ্গবন্ধু তাকে সম্মান করে দাদা বাবু বলে ডাকতেন। মনোরঞ্জন ধরকে মন্ত্রী হতে অনুরোধ করে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন-

‘দাদা আপনার কথার উপরে জীবনে কোন কথা বলিনি, আপনি যা বলবেন, যা করবেন সেটাতেই আমি রাজি।’

এই দাদা বাবু ১৫ ই আগস্টের পর মোশতাকের আইনমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং মনোরঞ্জন ধর ছিলেন কুখ্যাত ইনডেমনিটি নামক অধ্যাদেশের রচয়িতা। ‘দি বাংলাদেশ গেজেট, পাবলিশড বাই অথরিটি’ লেখা অধ্যাদেশটিতে দুটি ভাগ ছিল।

প্রথম অংশে বলা হয়েছিল-

‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বলবত আইনের পরিপন্থী যা কিছুই ঘটুক না কেন, এ ব্যাপারে সুপ্রিমকোটর্ সহ কোনো আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না।’

দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছিল-

‘রাষ্ট্রপতি উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে যাদের প্রত্যয়ন করবেন তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হলো,  তাদের বিরদ্ধে আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না।’

উল্লেখ্য বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রীসভার ২১ মন্ত্রীকে ১৫ই আগস্টের পর মোশতাকের মন্ত্রীসভায় দেখা যায়। আরও উল্লেখ্য যে সেই ২১জনের কয়েকজন পরবর্তীতে আবারও আওয়ামী লীগের টিকেটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

About admin

Check Also

জলঢাকায় মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ৮৪২ বোতল ফেন্সিডিলসহ ৩ শীর্ষ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার র‌্যাব

রেখা মনি, বিশেষ প্রতিনিধি, রংপুরঃ নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শেখমারী ইউনিয়নের মানিকগঞ্জ গ্রামে মাদক বিরোধী বিশেষ …

চিলমারীতে গলায় রশি দিয়ে বৃদ্ধের আত্মহত্যা

আলমগীর হোসাইন,  কুড়িগ্রামের চিলমারীতে গলায় রশির ফাঁস দিয়ে এক বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেছে। ওই বৃদ্ধের নাম …

চিলমারী মডেল থানা পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার 

চিলমারী  (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারী মডেল থানার সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *