বৃহস্পতিবার , মে ২৩ ২০২৪
Home / সারা দেশ / কুড়িগ্রামে ধরলা নদী থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলন হুমকির মুখে সেতু ও শহর রক্ষা বাঁধ

কুড়িগ্রামে ধরলা নদী থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলন হুমকির মুখে সেতু ও শহর রক্ষা বাঁধ

স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুড়িগ্রামে ধরলা নদী থেকে বেপরোয়াভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। এতে হুমকির মুখে পড়েছে উত্তর ধরলার তিন উপজেলার ৭ লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ ধরলা সেতু এবং কুড়িগ্রাম পুরাতন শহর রক্ষা বাঁধটি। প্রশাসনের নাকের ডগায় বালু অবৈধ উত্তোলনের বিষয়টি সাধারণ মানুষের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
কুড়িগ্রাম শহর ঘেঁষে প্রবাহমান ধরলা নদী। এই নদীটি জেলার ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী এবং ফুলবাড়ি উপজেলাকে বিচ্ছিন্ন করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতুটি জেলার মানুষ দুঃখ ঘোচাতে নির্মাণ করলেও এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙিয়ে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী বালু সিন্ডিকেট। সপ্তাহ খানেক আগে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত সিএন্ডবি ঘাটের পশ্চিম প্রান্তে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে বালু উত্তোলনের জন্য বিশেষ কায়দায় তৈরি করা ব্রিজটি ভেঙে দেয়। পরে ১ সপ্তাহ পার না হতেই আবারো জোসনার ঘাট এবং কুড়িগ্রাম শহর রক্ষা টি-বাধ ঘেঁষে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে ওই সিন্ডিকেটটি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গোলজার, আজগার, রাজু, আশরাফুল সহ আরো অনেকে স্থানীয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে ভয়ঙ্কর হুমকির মুখে থাকা শহর রক্ষা বাঁধ ঘেঁষে নদীর উপর বাঁশের তৈরি বিশেষ সেতু নির্মাণ করে প্রতিদিন শত শত ট্রাক্টর ভর্তি করে বালু পাচার করছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান, এই সিন্ডিকেটের নাম বলতে আমরা ভয় পাই। কারণ এরা এলাকার প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় নিরাপদে বাস করে। এদের বিরুদ্ধে বললে এরা নানাভাবে হুমকি এবং পথেঘাটে লাঞ্ছিত করে। এমতাবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধ করে কুড়িগ্রাম শহর রক্ষা বাঁধ রক্ষার দাবি জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে কথা হলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন,বালু উত্তোলন বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

About admin

Check Also

এবছরও উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজ

মাহফুজার রহমান মাহফুজ, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী উপজেলা ফুলবাড়ী। স্বাধীনতা অর্জনের দুই বছরের …

কুড়িগ্রামে প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলায় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার নিমিত্তে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২য় …

রংপুরে কিশোর গ্যাংয়ের মুলহোতা মেরাজ গ্রেফতার

রেখা মনি,রংপুর ব্যুরোঃ রংপুরে র‌্যাবের জালে বন্দি কিশোর গ্যাংয়ের মুলহোতা মেরাজ।কয়েকদিন আগে রংপুর নগরীর গণেশপুরে হোটেল ব্যবসায়ীর উপর হামলাকারী কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা মো.মেরাজ (২০)কে গ্রেফতার করেছে রংপুর র‌্যাব-১৩।র‌্যাব বলছেন রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানা থেকে ওই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার (১২)মে বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১৩ এর  উপ-পরিচালক (মিডিয়া) স্কোয়াড্রন লিডার মাহমুদ বশির আহমেদ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি সুত্রে জানা গেছে,গত পহেলা মে রংপুর নগরীর গণেশপুর বকুলতলা এলাকায় মো. মিরাজ ও তার অন্যান্য কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ভাই ভাই হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এর সামনে পটকা ফুটাতে থাকে। তবে এঘটনায় ২জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানাগেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-প্রধান আসামী মেরাজ ও শ্ওান। এতে হোটেল ম্যানেজার মো.শাহরিয়ার (২৬) বিরক্তি প্রকাশ করে কিশোরে বাবা মা এর কাছে তাদের নামে অভিযোগ বলে জানান।তখন সেখান থেকে চলে যায় তারা।পরেরদিন ২ মে মিরাজ ও তার কিশোর গ্যাং সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র দা, লোহার ধারালো কিরিচ, লোহার রড ইত্যাদি নিয়ে ভাই ভাই হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এ হামলা চালায়। হামলায় হোটেলের ম্যানেজার  শাহরিয়ার গুরুতর আহত হন। কিশোর গ্যাংয়ের সেদিনের হামলার ভিডিও (সিসি টিভি ফুটেজ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রæত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর মেরাজের সাথে থাকা অন্য দুই জন পুলিশের কাছে গ্রেফতার হলেও মিরাজ গা ঢাকা দেয়। এ ঘটনায় হোটেল মালিক বাদী হয়ে ওই দিনেই রংপুর কোতয়ালীয় ৩জনের নাম উলেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই রংপুর-র‌্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। ছায়া তদন্তের এক পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে (রোববার) মিঠাপুকুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা মো. মিরাজ কে গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে রংপুর ‌র‌্যাব- ১৩ এর  উপ-পরিচালক (মিডিয়া) স্কোয়াড্রন লিডার মাহমুদ বশির আহমেদ জানান,গ্রেফতার কিশোর গ্যাংয়ের মুলহোতা মেরাজকে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেই সাথে রংপুরে কিশোর গ্যাং মুক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নজরদারি রয়েছে বলে র‌্যাব জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *