বুধবার , মে ১৮ ২০২২
Home / সারা দেশ / চিলমারীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে বাড়ী করায় থমকে আছে ভবন নির্মাণের কাজ

চিলমারীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে বাড়ী করায় থমকে আছে ভবন নির্মাণের কাজ

চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দাতা কর্তৃক জমি দখল করে রাখা ও পরিত্যাক্ত ভবন নিলামে গাফিলতি সহ বিভিন্ন কারনে তিনটি ভবন নির্মাণের কাজ থমকে থাকার অভিযোগ উঠেছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমুহের গাফিলতিকে দায়ি করছেন ভূক্তভোগিরা।
জানাগেছে,চলতি অর্থ বছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধীনে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচী পিইডিপি-৪ এর আওতায় উপজেলায় ৫টি দ্বিতল ভবন ও ৭টি চর ডিজাইন স্কুল মিলে মোট ১২টি বিদ্যালয় নির্মাণ কাজের বরাদ্দ আসে।
এর মধ্যে চর ডিজাইন ৭টি বিদ্যালয়সহ ২টি ভবনের কাজ শেষের পথে। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারনে ৩টি ভবনের নির্মান কাজ ফেরত যেতে বসেছে। উপজেলার বালাবাড়ীহাট এলাকায় নালারপাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৯৩লাখ টাকা চুক্তি মূল্যের একটি দ্বিতল ভবনের বরাদ্দ আসে যার কাজ শুরুর তারিখ ১৯ আগষ্ট ২০২০ এবং সমাপ্তির তারিখ ১৯ মে ২০২১। ভবনটি নির্মাণকল্পে প্রকৌশল বিভাগ কাজ করতেগিয়ে পুরাতন ঘর রেলওয়ে বিভাগের জায়গায় অবস্থিত বলে ভবন নির্মাণ স্থগিত করে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়টির জমি দাতা মোখলেছুর রহমান স্কুলের নামে ৩৩ শতাং জমি দান করেন। পরে সুকৌশলে শ্রেণী পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়ের ১টি কাঁচা ঘর রেলওয়ে বিভাগের জায়গায় স্থাপন করে দানকৃত জমির উপরে নিজ বাড়ী নির্মান করে তা নেয়। এতে বিদ্যালয়ের নামে ৩৩শতাংশ জমির মধ্যে ২৬শতাংশ জমি তিনি দখলে রাখেন।

এসময় স্কুলের জমি দখল প্রসঙ্গে মোখলেছুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জমি দখলের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান এবং প্রধান শিক্ষককে দোষারোপ করেন। ফকিরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৭০লাখ টাকা চুক্তি মূল্যের একটি
দ্বিতল ভবনের বরাদ্দ আসে যার কাজ সমাপ্তির তারিখ ১৯ মে ২০২১। শিক্ষা বিভাগের অবহেলায় দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়টির পরিত্যাক্ত ভবন নিলামে অপসারনের অভাবে সেখানে ভবন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক একেএম সামিউল ইসলাম মুকুট জানান,কাজ আসার সাথে সাথেই তিনি সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিত্যাক্ত ভবন অপসারনের জন্য শিক্ষা অফিসে জানিয়েছেন। উপজেলার জোড়গাছ এলাকায় ডিএ চিলমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৮১লাখ টাকা চুক্তি মূল্যের দ্বিতল একটি ভবনের বরাদ্দ আসলেও পরিত্যাক্ত ভবন অপসারনের অভাবে সেটি নির্মান করতে পারছে না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাদিজা খাতুন বলেন,পরিত্যাক্ত ভবন নিলাম পূর্বক অপসারনের জন্য শিক্ষা অফিসে জানিয়েছেন তিনি।
এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও নিলাম কমিটির সদস্য সচিব মোঃ আবু সালেহ সরকার জানান, শিক্ষকদের ইএফটি’র কাজ ও মন্ত্রী মহোদয়ের কর্মসূচী নিয়ে ব্যাস্ত থাকায় পরিত্যাক্ত ভবন নিলামের কাজ করতে পারিনি,তবে আগামী সপ্তাহে নিলামের তারিখ নির্ধারন করা হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় ৩টির পরিত্যাক্ত ভবন অপসারনসহ নানা জটিলতার কারনে ভবনের কাজ শুরু করতে পারছি না। জায়গা ফাকা হলেই কাজ শুরু করা হবে।

About admin

Check Also

শেরপুরের ঐতিহ্য মাইসাহেবা জামে মসজিদ

আলমগীর হোসাইন ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর জেলা শহরে পা রাখলে প্রথমেই যে পুরোনো ঐতিহ্য চোখে পড়বে …

নাটোরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

নাটোরের বড়াইগ্রামে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যা ব। সোমবার ভোর রাতে র্যা …

বেগমগঞ্জে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ৪

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ও গোপালপুর ইউনিয়নের পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪ যুবককে গ্রেফতার করেছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *