সোমবার , জানুয়ারি ১৭ ২০২২
Home / সারা দেশ / ফুলবাড়ীতে গ্রাম আছে, চলাচলের রাস্তা নেই

ফুলবাড়ীতে গ্রাম আছে, চলাচলের রাস্তা নেই

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে পাশাপাশি দুটি গ্রাম ঝাউকুটি ও চর গোড়ক মন্ডপ। এই গ্রাম দুটিতে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস। গ্রাম আর গ্রামবাসী থাকলেও তাদের চলাচলের নেই কোন রাস্তা। রাস্তার অভাবে গ্রাম দুটির বাসিন্দাদের চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়তই। ঝাউকুটি গ্রামের কৃষক আবদার আলী বলেন, আমরা এই গ্রামের প্রতিটি মানুষ রাস্তার অভাবে খুব কষ্টে দিন যাপন করছি। রাস্তা না থাকায় এখানে যানবাহন চলে না। আমাদেরকে পায়ে হেঁটেই গ্রামের মধ্যে চলাচল করতে হয়। ছামিনা বেগম বলেন, আমি একজন গর্ভবতী মহিলা। আমাকে স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য নিয়মিত পাশের গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকে যেতে হয়। যাতায়তের রাস্তা না থাকায় পায়ে হেঁটে আমাদের যাতায়ত করতে হয়। এতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। রাস্তা না থাকায় ভোগান্তির শিকার হতে হয় ঝাউকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। এই বিদ্যালয়টি ২০০৯ সালে স্থাপিত হয় এবং ২০১৪ সালে এই বিদ্যালয়টিকে তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের ৮ বছর অতিবাহিত হলেও নির্মাণ হয় নি বিদ্যালয়ে যাতায়তের সংযোগ সড়ক। গড়ে উঠেনি পাকা ভবন। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়টিতে ৪ জন শিক্ষকসহ মোট ১৭০ জন শিক্ষার্থী আছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াত করতে হচ্ছে ফসলি জমি ও জমির চিকন আল দিয়ে। যাতায়তের সময় ফসলি জমির মালিক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের পথ রোধের ঘটনাও ঘটেছে অহরহ। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিপ্লব মিয়া,তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শাপলা খাতুন ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শারমিন আাক্তার, মজদুল ইসলাম জানায়, আমাদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনও রাস্তা নেই। মানুষের আবাদি জমির আল দিয়ে স্কুলে যাই। অনেক সময় আল দিয়ে যাতায়াতের সময় পা পিচলে মাটিতে পড়ে যাই, তখন আমাদের বই খাতাসহ গায়ের পোশাকগুলো নষ্ট হয়ে যায়।বর্ষা মৌসুমে বারোমাসিয়া ও ধরলা নদী উপচে জমির আল পানিতে ডুবে যাওয়ায় আমাদের স্কুলে যাওয়ায় বিঘ্ন ঘটে। যাতায়তের রাস্তা না থাকায় বর্ষাকালে আমরা স্কুলে যেতে পারি না। বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর সাত্তার বলেন, যাতায়তের রাস্তা না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা ক্ষেতের সরু আল দিয়ে যাতায়ত করে। ক্ষেতের মালিক অনেক সময় আলে কাটা দিয়ে বন্ধ করে দেয়। আবার অনেকেই জমি দিয়ে যাতায়তের কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে আমার কাছে বিচার নিয়ে আসে। প্রধান শিক্ষক মোঃ আশরাফুল হক জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে সংযোগ সড়ক স্থাপন করা খুব জরুরি। আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্ট করে মানুষের জমির চিকন আল দিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। বর্ষা মৌসুমে আমাদের ভোগান্তি আরও বেশি যায়। প্রতি বছরই বন্যার কারণে দফায় দফায় স্কুল বন্ধ রাখতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এ অঞ্চলের হাজারও মানুষ রাস্তা না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন এর আগে নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার সহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কে মৌখিক ও লিখিত জানালে তারা আশ্বাস দেয় যা এখনও পর্যন্ত কোন কাজে আসেনি। আমি আবারও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যালয়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

About admin

Check Also

ভূরুঙ্গামারীতে ব্যক্তি উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

  ভূরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ ভূরুঙ্গামারীতে ব্যক্তি উদ্যোগে দুঃস্থ্যদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার ( ১২ জানুয়ারি …

রাজারহাটে সাংবাদিকদের সঙ্গে এলজিআরডি’র যুগ্ম সচিবের মতবিনিময় ও শীতবস্ত্র বিতরণ

রফিকুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও রাজারহাট উপজেলার কৃতি …

ভূরুঙ্গামারীতে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

ভূরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ ভূরুঙ্গামারীতে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে পত্রিকার হকার ও দুঃস্থ্যদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার সকালে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *